মূল অংশে যান
HisabBD

এসএসসি ও এইচএসসি জিপিএ হিসাবের নিয়ম: চতুর্থ বিষয়সহ

লেটার গ্রেড থেকে বোর্ডের 5.00 স্কেলে জিপিএ কীভাবে আসে: চতুর্থ বিষয়ের বোনাস, 5.00 সীমা আর F-এর নিয়ম, একটি পুরো উদাহরণসহ।

প্রকাশ: 28 অক্টোবর 2026 · হালনাগাদ: 29 অক্টোবর 2026

সংক্ষেপে উত্তর

জিপিএ = (মূল বিষয়গুলোর গ্রেড পয়েন্টের যোগফল + চতুর্থ বিষয়ের বোনাস) ÷ মূল বিষয়ের সংখ্যা, সর্বোচ্চ 5.00। 80 বা তার বেশি নম্বরে A+ (5.00), 70–79-এ A (4.00), 60–69-এ A- (3.50), আর 33-এর কম হলে F। চতুর্থ বিষয় শুধু 2.00-এর ওপরের অংশ যোগ করে, তাই সেখানে A পেলে যোগ হয় 2।

মূল সূত্র এক লাইনে

জিপিএ = (মূল বিষয়গুলোর গ্রেড পয়েন্টের যোগফল + চতুর্থ বিষয়ের বোনাস) ÷ মূল বিষয়ের সংখ্যা, আর ফল যত বেশিই আসুক, সর্বোচ্চ 5.00।

মূল বিষয় মানে আপনার আবশ্যিক আর বিভাগভিত্তিক বিষয়গুলো। চতুর্থ (ঐচ্ছিক) বিষয় পুরো পয়েন্ট যোগ করে না, শুধু 2.00-এর ওপরের অংশটুকু বোনাস হিসেবে যোগ করে। আর ভাগ করার সময় চতুর্থ বিষয়কে গোনা হয় না। এই দুটো কথা বুঝলেই এসএসসি-এইচএসসির জিপিএ হিসাব সহজ। নিজের গ্রেড দিয়ে সরাসরি হিসাব করতে চাইলে এসএসসি ও এইচএসসি জিপিএ ক্যালকুলেটর ব্যবহার করুন।

এই নিয়মগুলো এসএসসি, এইচএসসি এবং দাখিল-আলিমের মতো সমমানের পরীক্ষায় বহুল প্রচলিত বোর্ডের চর্চার সঙ্গে মেলে। নিয়মগুলো জানিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন আমরা অনলাইনে পাইনি, তাই নিজের বোর্ডের ফলাফল বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন। বোর্ডের প্রকাশিত ফলাফলই চূড়ান্ত।

কত নম্বর পেলে A+: গ্রেড, গ্রেড পয়েন্ট আর চতুর্থ বিষয়ের বোনাস

বোর্ডের 5.00 স্কেলে প্রতিটি লেটার গ্রেডের পয়েন্ট, আর সেটি চতুর্থ বিষয়ে হলে কত বোনাস:

নম্বরগ্রেডগ্রেড পয়েন্টচতুর্থ বিষয়ে বোনাস
80–100A+5.00+3.00
70–79A4.00+2.00
60–69A-3.50+1.50
50–59B3.00+1.00
40–49C2.000
33–39D1.000
0–32F0.000

বোনাসের নিয়ম: বোনাস = চতুর্থ বিষয়ের গ্রেড পয়েন্ট − 2.00, তবে শূন্যের নিচে নয়। তাই চতুর্থ বিষয়ে C, D বা F পেলে কিছু যোগ হয় না, আবার কিছু কাটাও যায় না। চতুর্থ বিষয়ে F পেলে ফেলও হয় না।

উদাহরণ: এইচএসসি বিজ্ঞান, 6টি মূল বিষয়

ধরা যাক একজন শিক্ষার্থীর ফলাফল এমন:

  • বাংলা: A (4.00)
  • ইংরেজি: A- (3.50)
  • আইসিটি: A+ (5.00)
  • পদার্থবিজ্ঞান: A (4.00)
  • রসায়ন: A+ (5.00)
  • উচ্চতর গণিত: A+ (5.00)
  • জীববিজ্ঞান (চতুর্থ বিষয়): A (4.00)
  1. মূল বিষয়গুলোর পয়েন্ট যোগ: 4 + 3.5 + 5 + 4 + 5 + 5 = 26.50।
  2. চতুর্থ বিষয়ের বোনাস: 4.00 − 2.00 = 2.00।
  3. মোট: 26.5 + 2 = 28.50।
  4. ভাগ করুন শুধু মূল বিষয়ের সংখ্যা দিয়ে: 28.5 ÷ 6 = 4.75।

চতুর্থ বিষয় ছাড়া জিপিএ হতো 26.5 ÷ 6 = 4.416…, দুই দশমিকে 4.42। অর্থাৎ চতুর্থ বিষয় এখানে জিপিএ বাড়িয়েছে 0.33।

যখন 5.00-এর সীমা কাজে লাগে

এবার ধরুন বাংলা, আইসিটি, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন ও উচ্চতর গণিতে A+, ইংরেজিতে A, আর চতুর্থ বিষয় জীববিজ্ঞানে A+। মূল বিষয়ে 29 পয়েন্ট (শুধু এগুলোতে জিপিএ 4.83), বোনাস 3, তাই (29 + 3) ÷ 6 = 5.33। এটি 5.00-এর বেশি, তাই জিপিএ হয় 5.00। এভাবেই সব মূল বিষয়ে A+ না পেয়েও জিপিএ 5.00 পাওয়া যায়।

চতুর্থ বিষয় কেন জিপিএ কমাতে পারে না

চতুর্থ বিষয় যদি অন্য বিষয়ের মতো গড়ে ঢুকত, তাহলে সেখানে খারাপ গ্রেড পেলে জিপিএ কমে যেত। কিন্তু এটা ভাগের সংখ্যায় নেই, আর বোনাস কখনো শূন্যের নিচে যায় না। তাই ওপরের প্রথম উদাহরণে জীববিজ্ঞানে A-এর বদলে C বা F পেলে জিপিএ হতো চতুর্থ বিষয় ছাড়া জিপিএর সমান, অর্থাৎ 4.42; তার নিচে নামত না।

চতুর্থ বিষয় ছাড়া জিপিএ কী

আপনার আসল জিপিএ হলো চতুর্থ বিষয়সহ জিপিএ। আর “চতুর্থ বিষয় ছাড়া জিপিএ” মানে শুধু মূল বিষয়ের পয়েন্টের যোগফল ÷ মূল বিষয়ের সংখ্যা, কোনো বোনাস ছাড়া। ওপরের উদাহরণে তা 4.42, যেখানে চতুর্থ বিষয়সহ জিপিএ 4.75।

কোনো কোনো ভর্তি সার্কুলার যোগ্যতা যাচাই বা নম্বর হিসাবের জন্য চতুর্থ বিষয় ছাড়া জিপিএ চায়। কোথায় কোনটা লাগবে, আর সেটা দিয়ে কীভাবে নম্বর হিসাব হবে, তা প্রতিটি সার্কুলারে আলাদা, তাই যেখানে আবেদন করছেন সেই সার্কুলারেই দেখে নিন। এখানে আমরা কোনো ভর্তি সূত্র ধরে নিচ্ছি না।

ধাপে ধাপে নিজের জিপিএ হিসাব

  1. মার্কশিট থেকে প্রতিটি মূল বিষয়ের লেটার গ্রেড নিন। দুই পত্রের বিষয়ে সম্মিলিত গ্রেডটি নিন।
  2. কোনো মূল বিষয়ে F থাকলে থামুন: ফলাফল ফেল, জিপিএ 0.00।
  3. ওপরের টেবিল দেখে প্রতিটি গ্রেডকে পয়েন্টে বদলে যোগ করুন।
  4. চতুর্থ বিষয়ের পয়েন্ট থেকে 2 বাদ দিন; ফল শূন্যের বেশি হলে সেটা যোগফলে যোগ করুন।
  5. যোগফলকে মূল বিষয়ের সংখ্যা দিয়ে ভাগ করুন (চতুর্থ বিষয় বাদে)।
  6. ফল 5.00-এর বেশি হলে 5.00 ধরুন। বোর্ড দুই দশমিক পর্যন্ত দেখায়।

কয়টি বিষয় দিয়ে ভাগ করবেন, তা আপনার মূল বিষয়ের সংখ্যার ওপর নির্ভর করে। এইচএসসিতে সাধারণত 6টি মূল বিষয় (বাংলা, ইংরেজি, আইসিটি আর বিভাগের তিনটি বিষয়), এসএসসিতে বিভাগ ও বছরভেদে আরও বেশি। মার্কশিটে যতগুলো মূল বিষয় আছে, ততগুলো দিয়েই ভাগ করুন; কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যা মুখস্থ রাখার দরকার নেই।

যে ভুলগুলো প্রায়ই হয়

  • চতুর্থ বিষয়কে ভাগের সংখ্যায় ধরা। উদাহরণের মতো চতুর্থ বিষয়সহ 7টি বিষয় দেখে 7 দিয়ে ভাগ করলে জিপিএ কম আসে। ভাগ হয় শুধু মূল বিষয় দিয়ে, উদাহরণে 6।
  • চতুর্থ বিষয়ের পুরো পয়েন্ট যোগ করা। A পেলে 4 নয়, যোগ হয় 2।
  • দুই পত্রকে দুটো বিষয় ধরা। বাংলা ১ম ও ২য় পত্র মিলে একটি বিষয়, একটি সম্মিলিত গ্রেড।
  • মূল বিষয়ে F থাকলেও গড় করা। একটি মূল বিষয়ে F মানেই ফেল, বাকি গ্রেড যত ভালোই হোক।
  • 5.00-এর বেশি জিপিএ আশা করা। যোগফল যতই হোক, জিপিএ 5.00-এ আটকে যায়।
  • বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা। বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্রেডিট দিয়ে ভারিত গড় হয়; সেজন্য জিপিএ ক্যালকুলেটর ব্যবহার করুন।

হাতে হিসাব না করে নিজের গ্রেডগুলো এসএসসি ও এইচএসসি জিপিএ ক্যালকুলেটরে দিন: জিপিএ, পাস না ফেল, চতুর্থ বিষয়ের বোনাস আর চতুর্থ বিষয় ছাড়া জিপিএ একসঙ্গে দেখা যাবে। তবে আনুষ্ঠানিক ফলাফলের জন্য সবসময় আপনার বোর্ডের প্রকাশিত ফলাফল আর বিজ্ঞপ্তিই দেখুন।

ফলের পর: খাতা চ্যালেঞ্জ করবেন কি?

কোনো মূল বিষয়ে এক গ্রেড বাড়লে জিপিএ বাড়ে (নতুন পয়েন্ট − পুরোনো পয়েন্ট) ÷ মূল বিষয়ের সংখ্যা: এইচএসসির 6টি বিষয়ে A থেকে A+ হলে প্রায় 0.17। মূল বিষয়ের F বদলে D হলে ফেল থেকে পাস হয়, আর জিপিএ 5.00 হলে আর বাড়ে না। ফি দেওয়ার আগে পড়ুন খাতা চ্যালেঞ্জে জিপিএ কত বাড়তে পারে, এইচএসসি 2026-এর তারিখ ও সূত্রসহ।

এসএসসি ও এইচএসসি জিপিএ ক্যালকুলেটর দিয়ে হিসাব করুন