মূল অংশে যান
HisabBD

বাংলা ক্যালেন্ডার (বঙ্গাব্দ) কীভাবে চলে: মাস, ঋতু, অধিবর্ষ ও 2019 সালের সংশোধন

বাংলাদেশের সংশোধিত বাংলা ক্যালেন্ডারের নিয়ম: কোন মাস কত দিনের, পহেলা বৈশাখ কেন 14 এপ্রিল, অধিবর্ষে ফাল্গুন, ছয় ঋতু আর জাতীয় দিবসগুলোর বাংলা তারিখ।

প্রকাশ: 29 অক্টোবর 2026

সংক্ষেপে উত্তর

বাংলাদেশের সংশোধিত বাংলা পঞ্জিকায় বছর শুরু 14 এপ্রিল, পহেলা বৈশাখে। বৈশাখ থেকে আশ্বিন 31 দিনের, ফাল্গুন 29 দিনের (অধিবর্ষে 30), বাকি মাস 30 দিনের। 14 এপ্রিল থেকে ইংরেজি সাল থেকে 593, তার আগে 594 বাদ দিলে বাংলা সাল মেলে, তাই 14 এপ্রিল 2026 থেকে 1433।

বঙ্গাব্দ কীভাবে চলে: চারটি নিয়ম

বাংলাদেশে সরকারিভাবে যে বাংলা ক্যালেন্ডার (বঙ্গাব্দ) চলে, তা বাংলা একাডেমি সর্বশেষ 2019 সালে সংশোধন করে। এর নিয়ম প্রতি বছর একই, আর মনে রাখাও সহজ:

  1. বছর শুরু হয় 14 এপ্রিল, অর্থাৎ ১ বৈশাখ বা পহেলা বৈশাখ। 13 এপ্রিল চৈত্রের শেষ দিন।
  2. প্রথম ছয় মাস, বৈশাখ থেকে আশ্বিন, প্রতিটি 31 দিনের।
  3. কার্তিক, অগ্রহায়ণ, পৌষ, মাঘ ও চৈত্র 30 দিনের।
  4. ফাল্গুন 29 দিনের, তবে অধিবর্ষে 30 দিনের।

বাংলা সাল বের করতে 14 এপ্রিল বা তার পরের তারিখে ইংরেজি সাল থেকে 593 বিয়োগ করুন, তার আগের তারিখে 594। তাই 14 এপ্রিল 2026 থেকে 1433 বঙ্গাব্দ শুরু, আর 1 জানুয়ারি 2027-ও 1433-এ পড়ে (2027 − 594)। কোনো তারিখ হাতে না গুনে দেখতে চাইলে বাংলা তারিখ রূপান্তর টুলটি ব্যবহার করুন; এই নিয়মেই হিসাব করে।

বাংলা ক্যালেন্ডার ১৪৩৩: কোন মাস কবে

মাসের দৈর্ঘ্য নির্দিষ্ট বলে প্রতিটি বাংলা মাস প্রতি বছর একই ইংরেজি তারিখে শুরু হয়। 1433 বঙ্গাব্দ চলবে 14 এপ্রিল 2026 থেকে 13 এপ্রিল 2027 পর্যন্ত:

মাসদিনশুরুশেষঋতু
বৈশাখ3114 এপ্রিল 202614 মে 2026গ্রীষ্ম
জ্যৈষ্ঠ3115 মে 202614 জুন 2026গ্রীষ্ম
আষাঢ়3115 জুন 202615 জুলাই 2026বর্ষা
শ্রাবণ3116 জুলাই 202615 আগস্ট 2026বর্ষা
ভাদ্র3116 আগস্ট 202615 সেপ্টেম্বর 2026শরৎ
আশ্বিন3116 সেপ্টেম্বর 202616 অক্টোবর 2026শরৎ
কার্তিক3017 অক্টোবর 202615 নভেম্বর 2026হেমন্ত
অগ্রহায়ণ3016 নভেম্বর 202615 ডিসেম্বর 2026হেমন্ত
পৌষ3016 ডিসেম্বর 202614 জানুয়ারি 2027শীত
মাঘ3015 জানুয়ারি 202713 ফেব্রুয়ারি 2027শীত
ফাল্গুন2914 ফেব্রুয়ারি 202714 মার্চ 2027বসন্ত
চৈত্র3015 মার্চ 202713 এপ্রিল 2027বসন্ত

পরের বছরগুলোতেও শুরুর তারিখ একই থাকে; শুধু অধিবর্ষে ফাল্গুনের শেষ দিন এক দিন সরে যায় (নিচে দেখুন)।

উদাহরণ: আজ বাংলা কত তারিখ, হাতে হিসাব

28 অক্টোবর 2026-এর বাংলা তারিখ বের করা যাক।

  1. তারিখটি 14 এপ্রিলের পরে, তাই সাল 2026 − 593 = 1433।
  2. সারণি বলছে কার্তিক শুরু 17 অক্টোবর। তাই 28 অক্টোবর হলো কার্তিকের 28 − 17 + 1 = 12 তারিখ।
  3. কার্তিক হেমন্ত ঋতুর মাস।

উত্তর: 28 অক্টোবর 2026, বুধবার, হলো ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ (12 কার্তিক 1433)। পরের দিন, 29 অক্টোবর, ১৩ কার্তিক। বাংলা তারিখ প্রচলিতভাবে বাংলা অঙ্কে লেখা হয়, তাই এখানে সেভাবেই দেখানো হলো।

বছরের সীমানায় খেয়াল রাখুন: 13 এপ্রিল 2026 ছিল ৩০ চৈত্র ১৪৩২, বছরের শেষ দিন, আর পরদিন 14 এপ্রিল ১ বৈশাখ ১৪৩৩। তাই 1 জানুয়ারি থেকে 13 এপ্রিলের মধ্যের কোনো তারিখের সাল বের করতে 593 নয়, 594 বিয়োগ করতে হয়; এখানেই হাতে হিসাবে সবচেয়ে বেশি ভুল হয়।

উল্টো দিকেও একই পদ্ধতি: ৩১ আশ্বিন ১৪৩৩ কোন দিন? আশ্বিন শুরু 16 সেপ্টেম্বর, তাই 31তম দিন 16 অক্টোবর 2026। প্রতিদিনের বাংলা তারিখ পাতা খুলেই দেখতে বাংলা তারিখ রূপান্তরে যান; আপনার ডিভাইসের তারিখ থেকে আজকের বাংলা তারিখ, ঋতু ও বার দেখায়।

2019 সালের সংশোধনে কী বদলেছে

আগের নিয়মে প্রথম পাঁচ মাস ছিল 31 দিনের, বাকি সাত মাস 30 দিনের। 2015 সালে বাংলা একাডেমির সাবেক মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খানের নেতৃত্বে একটি কমিটি সংশোধনের সুপারিশ করে, আর 2019 সাল থেকে নতুন নিয়ম চালু হয়: আশ্বিনও 31 দিনের হলো, আর ফাল্গুন 29 দিনের (অধিবর্ষে 30)। 2019 সালেই প্রথমবার আশ্বিন 31 দিনের হয়।

উদ্দেশ্য দুটো: ইংরেজি ক্যালেন্ডারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলা, আর জাতীয় দিবসগুলোকে 1952 ও 1971 সালের সেই বাংলা তারিখে স্থির করা। আগে 21 ফেব্রুয়ারি কোনো বছর ৮ ফাল্গুন, কোনো বছর ৯ ফাল্গুন পড়ত। একই কারণে পহেলা ফাল্গুনও এখন স্থায়ীভাবে 14 ফেব্রুয়ারি; অভ্যাসবশত 13 ফেব্রুয়ারি পালনের দিন শেষ।

পশ্চিমবঙ্গ ও ভারতের অন্যান্য রাজ্যে ঐতিহ্যবাহী পঞ্জিকা চলে, যেখানে মাসের দৈর্ঘ্য জ্যোতির্বিজ্ঞানের হিসাবে বছরে বছরে বদলায়। তাই একই দিনে দুই দেশের বাংলা তারিখ আলাদা হতে পারে। 2019-এর আগের কোনো ছাপা ক্যালেন্ডারের সঙ্গেও আজকের নিয়মে করা হিসাব এক দিন আলাদা হতে পারে।

অধিবর্ষে ফাল্গুন কেন 30 দিনের

ফাল্গুন চলে 14 ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চের মাঝামাঝি, তাই 29 ফেব্রুয়ারি এই মাসেই পড়ে। যে বছর ফেব্রুয়ারিতে 29 তারিখ থাকে, সে বছর ফাল্গুনে একটা বাড়তি দিন যোগ হয়। তাই চৈত্র ঠিকই 15 মার্চে শুরু হয়, আর পহেলা বৈশাখ 14 এপ্রিলেই থাকে।

  • ফাল্গুন ১৪৩৩ (2027 সালের ফেব্রুয়ারি-মার্চ) 29 দিনের; ৩০ ফাল্গুন ১৪৩৩ বলে কোনো তারিখ নেই।
  • ফাল্গুন ১৪৩৪ চলবে 14 ফেব্রুয়ারি থেকে 14 মার্চ 2028 পর্যন্ত, 30 দিন। 29 ফেব্রুয়ারি 2028 হবে ১৬ ফাল্গুন ১৪৩৪, আর 15 মার্চ 2028 ১ চৈত্র।

পত্রিকার খবরে নিয়মটি “প্রতি চার বছরে একবার” বলা হয়েছে। আমাদের রূপান্তর পুরো গ্রেগরীয় নিয়ম মানে (যেমন 2100 অধিবর্ষ নয়), কারণ শুধু তাতেই দুই ক্যালেন্ডার চিরকাল একসঙ্গে চলে।

ছয় ঋতু ও জাতীয় দিবসের বাংলা তারিখ

বৈশাখ থেকে দুই মাস করে ছয় ঋতু: গ্রীষ্ম (বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ), বর্ষা (আষাঢ়-শ্রাবণ), শরৎ (ভাদ্র-আশ্বিন), হেমন্ত (কার্তিক-অগ্রহায়ণ), শীত (পৌষ-মাঘ) ও বসন্ত (ফাল্গুন-চৈত্র)।

সংশোধনের পর জাতীয় দিবসগুলো প্রতি বছর একই বাংলা তারিখে পড়ে:

  • 21 ফেব্রুয়ারি (শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস) = ৮ ফাল্গুন
  • 26 মার্চ (স্বাধীনতা দিবস) = ১২ চৈত্র
  • 16 ডিসেম্বর (বিজয় দিবস) = ১ পৌষ
  • 14 এপ্রিল (পহেলা বৈশাখ, বাংলা নববর্ষ) = ১ বৈশাখ
  • 14 ফেব্রুয়ারি = পহেলা ফাল্গুন, বসন্তের প্রথম দিন

একই নিয়মে রবীন্দ্রজয়ন্তী (২৫ বৈশাখ) প্রতি বছর 8 মে, আর নজরুলজয়ন্তী (১১ জ্যৈষ্ঠ) 25 মে পড়ে। সামনের দিনগুলো: 16 ডিসেম্বর 2026 = ১ পৌষ ১৪৩৩, 21 ফেব্রুয়ারি 2027 = ৮ ফাল্গুন ১৪৩৩, আর 14 এপ্রিল 2027 = ১ বৈশাখ ১৪৩৪। পহেলা বৈশাখ বা অন্য কোনো দিবস আসতে আর কত দিন বাকি, জানতে তারিখের পার্থক্য ক্যালকুলেটর ব্যবহার করুন।

সূত্র

2019 সালের সংশোধনে মাসের দৈর্ঘ্য, অধিবর্ষের ফাল্গুন ও 21 ফেব্রুয়ারি = ৮ ফাল্গুন: Dhaka Tribune (22 অক্টোবর 2019, বাংলা একাডেমির সচিব মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেনের বক্তব্যসহ)। জাতীয় দিবসের স্থির তারিখ (৮ ফাল্গুন, ১২ চৈত্র, ১ পৌষ) ও পহেলা ফাল্গুন 14 ফেব্রুয়ারি: The Daily Star (13 ফেব্রুয়ারি 2020)। দুটো সূত্রই আমরা 29 অক্টোবর 2026-এ আবার দেখেছি।

বাংলা তারিখ রূপান্তর দিয়ে হিসাব করুন