মূল অংশে যান
HisabBD

চাকরি ছাড়লে কত টাকা পাবেন: শ্রম আইন হিসাব

Job Exit Benefit Calculator (Labour Act)

ইস্তফা, ছাঁটাই, ডিসচার্জ বা মালিকের চাকরি অবসানে স্থায়ী শ্রমিক শ্রম আইন অনুযায়ী কত পান তার আনুমানিক হিসাব: প্রতি বছরের ক্ষতিপূরণ, গ্র্যাচুইটি ও নোটিশের মজুরি।

নিয়মগুলো সর্বশেষ যাচাই: 2 নভেম্বর 2026

চাকরি ও মজুরি বিভাগের আরও ক্যালকুলেটর

না থাকলে ফাঁকা রাখুন। বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ও অন্য ভাতা ধরা হয় না (ধারা 14(3))।

আইনে বলা নেই। মালিক বা পে-স্লিপে যা ধরা হয় তা লিখুন, প্রায়ই 30 বা 26। আমরা কোনো সংখ্যা ধরে নিই না।

শুধু তখনই টিক দিন যখন চাকরির চুক্তি বা বিধিতে গ্র্যাচুইটি আছে। গ্র্যাচুইটি ও ক্ষতিপূরণের মধ্যে বেশিটি ধরা হয়।

চাকরি অবসানের সুবিধা এখানে দেখা যাবে

চাকরি কীভাবে শেষ হলো বেছে মজুরি, চাকরিকাল ও মাসের দিন লিখে “চাকরি অবসানের সুবিধা হিসাব করুন” চাপুন।

চাকরি অবসানের সুবিধা কীভাবে হিসাব হয়

সুবিধা = সম্পূর্ণ চাকরি বছর × প্রতি বছরের মজুরির দিন × দৈনিক মজুরি। নোটিশ না দেওয়া হলে নোটিশের মজুরি যোগ বা বাদ হয়।

  • মজুরি = সর্বশেষ মাসিক মূল মজুরি + মহার্ঘ বা এডহক ভাতা (ধারা 14(3))।
  • দৈনিক মজুরি = ওই মজুরি ÷ আপনার লেখা মাসের দিন।
  • প্রতি বছরের দিন চাকরি কীভাবে শেষ হলো তার ওপর নির্ভর করে: ছাঁটাই, ডিসচার্জ ও মালিক কর্তৃক অবসানে 30; ইস্তফায় 7, 15 বা 30।
  • গ্র্যাচুইটি প্রদেয় হলে গ্র্যাচুইটি ও ক্ষতিপূরণের মধ্যে বেশিটি ধরা হয়।

উদাহরণ: ইস্তফা

মূল মজুরি ৳20,000, মহার্ঘভাতা নেই, চাকরি 4 বছর 8 মাস, মাসে 30 দিন, পূর্ণ নোটিশ দেওয়া হয়েছে:

  1. দৈনিক মজুরি: ৳20,000 ÷ 30 = ৳666.67।
  2. সম্পূর্ণ বছর: 4। চাকরি 3 বছরের বেশি কিন্তু 10 বছরের কম, তাই বছরে 15 দিন হার।
  3. সুবিধা: 4 × 15 × ৳666.67 = ৳40,000।

উদাহরণ: ছাঁটাই

মূল মজুরি ৳14,000 আর মহার্ঘভাতা ৳1,000, চাকরি 8 বছর 7 মাস, মাসে 30 দিন, গ্র্যাচুইটি প্রদেয়, নোটিশ দেওয়া হয়নি:

  1. মজুরি: ৳15,000। দৈনিক মজুরি: ৳15,000 ÷ 30 = ৳500।
  2. ক্ষতিপূরণ: 8 সম্পূর্ণ বছর × 30 দিন × ৳500 = ৳120,000।
  3. গ্র্যাচুইটি: 7 মাস ছয় মাসের বেশি, তাই 9 বছর × 30 দিন × ৳500 = ৳135,000, যা বেশি।
  4. নোটিশ: নোটিশের বদলে এক মাসের মজুরি, ৳15,000।
  5. মোট: ৳135,000 + ৳15,000 = ৳150,000।

নতুন চাকরির বেতন ভাবছেন? হাতে কত পাবেন দেখতে বেতন ক্যালকুলেটর আর 108 ধারায় ওভারটাইম দেখতে ওভারটাইম ক্যালকুলেটর ব্যবহার করুন। দুই তারিখের মধ্যে চাকরিকাল গুনতে তারিখের ব্যবধান ক্যালকুলেটর কাজে লাগবে।

কোন মজুরি ধরা হয়

2 নভেম্বর 2026 সরকারের ওয়েবসাইটে 2026 সালের সংশোধনের পর বাংলাদেশ শ্রম আইন 2006-এর 14(3) ধারায় বলা আছে:

“মজুরি” বলিতে কোনো শ্রমিকের ছাঁটাই, বরখাস্ত, অপসারণ, ডিসচার্জ, অবসর গ্রহণ বা চাকুরির অবসানের পূর্ববর্তী সর্বশেষ মাসিক মূল মজুরি ও মহার্ঘ ভাতা এবং এডহক বা অন্তবর্তী মজুরি, যদি থাকে, উহাকে বুঝাইবে।

অর্থাৎ সর্বশেষ মাসিক মূল মজুরি, মহার্ঘ ভাতা এবং এডহক বা অন্তর্বর্তী মজুরি (যদি থাকে)। বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ও যাতায়াত ভাতার নাম সেখানে নেই, তাই ধরা হয় না। ঐচ্ছিক ঘরে শুধু মহার্ঘ বা এডহক অংশ লিখুন।

মাসের দিন কেন নিজে লিখতে হবে

20, 22, 26 ও 27 ধারায় মাসিক মজুরি থেকে দৈনিক মজুরি কীভাবে বের হবে তা আইনে বলা নেই। (48(2) ধারায় 26 দিয়ে ভাগের কথা আছে, কিন্তু তা শুধু মাতৃত্বকালীন সুবিধার জন্য।) মালিকেরা প্রায়ই 30 বা 26 ধরেন; আমরা অনুমান করি না। সংখ্যাটি পে-স্লিপ, নিয়োগপত্র বা এইচআর থেকে নিন। ছাঁটাইয়ের এক মাসের নোটিশ মাসিক মজুরিই, তাই তা এই সংখ্যার ওপর নির্ভর করে না।

ইস্তফা (ধারা 27)

বাংলাদেশ আইন ওয়েবসাইটে 2026 সালের শ্রম (সংশোধন) আইনে প্রতিস্থাপিত 27(4) ধারায় বলা আছে, ইস্তফা দিলে মালিক স্থায়ী শ্রমিককে প্রতি সম্পূর্ণ চাকরি বছরের জন্য ক্ষতিপূরণ দেবেন:

(ক) 3 (তিন) বৎসর পর্যন্ত অবিচ্ছিন্নভাবে মালিকের অধীন চাকুরি করিয়া থাকেন তাহা হইলে, 7 (সাত) দিনের মজুরি; (খ) 3 (তিন) বৎসরের বেশি কিন্তু 10 (দশ) বছরের কম মেয়াদে … তাহা হইলে, 15 (পনের) দিনের মজুরি; (গ) 10 (দশ) বৎসর বা তদূর্ধ্ব সময় … তাহা হইলে, 30 (ত্রিশ) দিনের মজুরি, অথবা গ্রাচ্যুইটি, যদি প্রদেয় হয়, যাহা অধিক হইবে
  • 3 বছর পর্যন্ত চাকরিতে প্রতি সম্পূর্ণ বছরের জন্য 7 দিনের মজুরি।
  • 3 বছরের বেশি কিন্তু 10 বছরের কম হলে প্রতি সম্পূর্ণ বছরের জন্য 15 দিনের মজুরি।
  • 10 বছর বা তার বেশি হলে প্রতি সম্পূর্ণ বছরের জন্য 30 দিনের মজুরি, বা প্রদেয় ও বেশি হলে গ্র্যাচুইটি।

আমরা মোট চাকরিকালের হার প্রতিটি সম্পূর্ণ বছরে প্রয়োগ করি; পাঠে হারগুলো ধাপে ধাপে (মার্জিনাল) বলা নেই। এই ক্ষতিপূরণ “এই আইনের অধীন শ্রমিককে প্রদেয় অন্যান্য সুবিধার অতিরিক্ত”।

নোটিশ: 27(1) ধারায় স্থায়ী শ্রমিক “ষাট দিনের লিখিত নোটিশ” দিয়ে ইস্তফা দিতে পারেন। 27(3) ধারায় নোটিশ ছাড়াও ইস্তফা দেওয়া যায়, তবে মালিককে “নোটিশ মেয়াদের জন্য মজুরীর সমপরিমাণ অর্থ” দিতে হয়। নোটিশ দেননি বলে টিক দিলে মোট অঙ্ক থেকে আনুমানিকভাবে 60 দিনের মজুরি বাদ যায়।

মালিক কর্তৃক চাকরির অবসান (ধারা 26)

26 ধারা সেই স্থায়ী শ্রমিকের জন্য, যাঁর চাকরি মালিক বরখাস্ত বা এই অধ্যায়ের অন্য পন্থা ছাড়া অন্যভাবে শেষ করেন। 26(1)(ক) ধারায় মাসিক মজুরির শ্রমিকের ক্ষেত্রে “একশত বিশ দিনের” লিখিত নোটিশ লাগে, আর 26(3) ধারায় মালিক নোটিশের বদলে নোটিশ মেয়াদের মজুরি দিতে পারেন। 26(4) ধারায় বলা আছে:

মালিক শ্রমিককে তাহার প্রত্যেক সম্পূর্ণ বৎসরের চাকুরীর জন্য ক্ষতিপূরণ হিসাবে ত্রিশ দিনের মজুরী, অথবা গ্রাচ্যুইটি, যদি প্রদেয় হয়, যাহা অধিক হইবে, প্রদান করিবেন

অর্থাৎ প্রতি সম্পূর্ণ বছরের জন্য 30 দিনের মজুরি, বা প্রদেয় ও বেশি হলে গ্র্যাচুইটি, অন্যান্য সুবিধার অতিরিক্ত। নোটিশ দেওয়া হয়নি বলে টিক দিলে 120 দিনের মজুরি যোগ হয়।

ছাঁটাই (ধারা 20)

প্রয়োজন অতিরিক্ততার কারণে মালিক কর্তৃক চাকরির অবসানই ছাঁটাই (ধারা 2(11))। 20(2) ধারা কমপক্ষে এক বছর অবিচ্ছিন্ন চাকরির শ্রমিকের জন্য। মালিককে কারণ উল্লেখ করে এক মাসের লিখিত নোটিশ দিতে হয়, “অথবা নোটিশ মেয়াদের জন্য নোটিশের পরিবর্তে মজুরী প্রদান” করতে হয়, এবং 20(2)(গ) অনুযায়ী:

তাহাকে ক্ষতিপূরণ বাবদ তাহার প্রত্যেক বৎসর চাকুরীর জন্য ত্রিশ দিনের মজুরী বা গ্রাচ্যুইটি যদি প্রদেয় হয়, যাহা অধিক হইবে, প্রদান করিতে হইবে

20(3) ধারায় 16(7) ধারার লে-অফের পর ছাঁটাইয়ে আরও 15 দিনের মজুরি যোগ হয়; সেই ক্ষেত্র এখানে ধরা হয়নি। নোটিশের একটি কপি প্রধান পরিদর্শক ও যৌথ দর কষাকষি প্রতিনিধিকেও দিতে হয়।

অসুস্থতায় ডিসচার্জ (ধারা 22)

রেজিস্টার্ড চিকিৎসক প্রত্যয়িত শারীরিক বা মানসিক অক্ষমতা বা অব্যাহত ভগ্ন স্বাস্থ্যের কারণে মালিক কর্তৃক চাকরির অবসানই ডিসচার্জ (ধারা 2(17) ও 22(1))। 22(2) ধারায় বলা আছে:

ডিসচার্জকৃত কোন শ্রমিক অনূ্যন এক বৎসর অবিচ্ছিন্ন চাকুরী সম্পূর্ণ করিলে তাহাকে মালিক তাহার প্রত্যেক বৎসর চাকুরীর জন্য ক্ষতিপূরণ হিসাবে ত্রিশ দিনের মজুরী অথবা গ্রাচ্যুইটি, যদি প্রদেয় হয়, যাহা অধিক হইবে, প্রদান করিবেন

22 ধারায় নোটিশের মেয়াদ বলা নেই, তাই ডিসচার্জে ক্যালকুলেটর কোনো নোটিশের লাইন দেখায় না।

গ্র্যাচুইটি ও ছয় মাসের নিয়ম

2(10) ধারায় গ্র্যাচুইটির সংজ্ঞা:

কোন শ্রমিকের প্রতি পূর্ণ বৎসর চাকুরী অথবা ছয় মাসের অতিরিক্ত সময়ের চাকুরীর জন্য তাহার সর্বশেষ প্রাপ্ত মজুরী হারে ন্যূনতম 30 দিনের মজুরী অথবা 10 বৎসরের অধিককাল চাকুরীর ক্ষেত্রে তাহার সর্বশেষ প্রাপ্ত মজুরী হারে 45 দিনের মজুরী

সহজ কথায় এবং এই ক্যালকুলেটর যেভাবে পড়ে:

  • প্রতি পূর্ণ বছর গোনা হয়, আর ছয় মাসের বেশি অংশ-বছরও। ঠিক 6 মাস গোনা হয় না; 6 মাস 1 দিন গোনা হয়।
  • বছরে ন্যূনতম 30 দিনের মজুরি, আর চাকরি 10 বছরের বেশি হলে বছরে 45 দিনের মজুরি। সেই ক্ষেত্রে আমরা 45 দিন সব বছরে ধরি, শুধু দশম বছরের পরের বছরগুলোতে নয়।
  • গ্র্যাচুইটি “প্রদেয় হলে” পাওয়া যায়, যা মালিকের নিয়মের ওপর নির্ভর করে; তাই আপনি নিজে টিক দেন। ক্ষতিপূরণের সঙ্গে তুলনা করে বেশিটি ধরা হয়।
  • আমরা গ্র্যাচুইটি এক সম্পূর্ণ বছরের পর থেকে, আর ইস্তফায় 27(4)(গ) অনুযায়ী 10 বছর থেকে ধরি।

মালিকের নিজস্ব স্কিম আইনের ন্যূনতমের চেয়ে বেশি দিতে পারে। এই ক্যালকুলেটর স্কিম ধরে না, শুধু আইনের অঙ্ক ধরে। সম্পূর্ণ বছরের ক্ষতিপূরণে অংশ-বছর গোনা হয় না; শুধু গ্র্যাচুইটিতে হয়।

কী ধরা হয়নি, এবং কেন

  • অসদাচরণে বরখাস্ত (ধারা 23): এটি প্রমাণিত অসদাচরণের প্রক্রিয়ার পরে হয়। 23(3) ধারায় কমপক্ষে এক বছর চাকরির বরখাস্ত বা অপসারিত শ্রমিক প্রতি সম্পূর্ণ বছরের জন্য 15 দিনের মজুরি পান, তবে কিছু অপরাধে কিছুই নয়। ফল সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে, অঙ্কের ওপর নয়, তাই আমরা বাদ দিয়েছি।
  • মৃত্যু (ধারা 19), অবসর (ধারা 28), বিপর্যয়ে বন্ধ (28ক) ও লে-অফ: নিয়ম আলাদা।
  • অস্থায়ী শ্রমিক, শিক্ষানবিশ ও মাসিক মজুরিতে নয় এমন শ্রমিক: নোটিশের মেয়াদ আলাদা, আর 26(4) বা 27(4) ধারার ক্ষতিপূরণ নেই।
  • অব্যয়িত বার্ষিক ছুটির মজুরি (ধারা 11), ভবিষ্য তহবিল, বোনাস, কর ও অন্য ভাতা।
  • 14(1) ধারার “এক বৎসর” বা “ছয় মাস” গণনার পরীক্ষা: আইনে আগের 12 মাসে বাস্তবে অন্তত 240 দিন কাজ করলে এক বছর ধরা হয়। আমরা ধরে নিই আপনার চাকরি অবিচ্ছিন্ন ছিল।
  • সরকারি কর্মচারী এবং অন্য আইন বা চুক্তির অধীন শ্রমিকরা শ্রম আইনের বাইরে।

30 ধারায় বলা আছে, চাকরি শেষ হওয়ার পর “সর্বোচ্চ ত্রিশ কর্ম দিবসের মধ্যে” সব পাওনা পরিশোধ করতে হবে।

2 নভেম্বর 2026 যাচাই করা নিয়ম

2 নভেম্বর 2026 সরকারের বাংলাদেশ আইন ওয়েবসাইটে বাংলাদেশ শ্রম আইন 2006-এর ধারা 2, 11, 14, 20, 22, 23, 26, 27 ও 30 পড়ে দেখা হয়েছে। সেই পাঠে 14 ও 27(4) ধারায় শ্রম (সংশোধন) আইন 2026 (2026 সনের 43 নং আইন) এবং অন্যত্র 2013 ও 2018 সালের সংশোধন দেখা গেছে। কোন পরিবর্তন কবে কার্যকর হয়েছে তা আমরা যাচাই করিনি; তাই চাকরি অনেক আগে শেষ হয়ে থাকলে আগের পাঠ প্রযোজ্য হতে পারে।

এই পাতা সাধারণ তথ্য, আইনি পরামর্শ নয়। কত পাবেন তা ঠিক হবে নিয়োগপত্র, চাকরি বিধি, কোনো মীমাংসা আর আদালতের মাধ্যমে। আরও পাওনা আছে মনে হলে ইউনিয়ন বা শ্রম অফিসের সঙ্গে কথা বলুন।

ক্যালকুলেটর ব্যবহারের নিয়ম

  1. চাকরি কীভাবে শেষ হলো বেছে নিন।
  2. সর্বশেষ মাসিক মূল মজুরি এবং মহার্ঘ বা এডহক ভাতা (থাকলে) লিখুন।
  3. অবিচ্ছিন্ন চাকরির বছর, আর থাকলে অতিরিক্ত মাস ও দিন লিখুন।
  4. দৈনিক মজুরির জন্য মালিক মাসে যত দিন ধরেন তা লিখুন।
  5. মালিক গ্র্যাচুইটি দিলে টিক দিন, আর নোটিশ দেওয়া বা পালন করা না হলে নোটিশের টিক তুলে দিন।
  6. “চাকরি অবসানের সুবিধা হিসাব করুন” চাপলে প্রতিটি লাইন ধারা নম্বরসহ দেখা যাবে।

আপনার তথ্য ব্রাউজারেই থাকে। শুধু এই ডিভাইসের সাম্প্রতিক হিসাবে সংরক্ষিত হয়, যা বন্ধ করা যায়।

সূত্র

সবগুলো 2 নভেম্বর 2026 যাচাই করা।

সচরাচর জিজ্ঞাসা

শ্রম আইনে ইস্তফা দিলে কত টাকা পাব?

2026 সালে প্রতিস্থাপিত 27(4) ধারায় স্থায়ী শ্রমিক প্রতি সম্পূর্ণ চাকরি বছরের জন্য পান: 3 বছর পর্যন্ত চাকরিতে 7 দিনের মজুরি, 3 বছরের বেশি কিন্তু 10 বছরের কম হলে 15 দিনের মজুরি, আর 10 বছর বা তার বেশি হলে 30 দিনের মজুরি (বা প্রদেয় হলে গ্র্যাচুইটি, যেটি বেশি)। যেমন মূল মজুরি ৳20,000, দৈনিক মজুরি ৳666.67 (30 দিয়ে ভাগ) আর 4 বছর 8 মাস চাকরিতে 4 সম্পূর্ণ বছরের জন্য 15 দিন হারে ৳40,000।

ছাঁটাই হলে কত ক্ষতিপূরণ পাব?

20(2) ধারায় কমপক্ষে এক বছর অবিচ্ছিন্ন চাকরি থাকলে এক মাসের লিখিত নোটিশ (বা তার বদলে এক মাসের মজুরি) এবং প্রতি বছরের জন্য 30 দিনের মজুরি বা প্রদেয় হলে গ্র্যাচুইটি, যেটি বেশি, পাওয়া যায়। মজুরি ৳15,000 (মূল ৳14,000 ও মহার্ঘভাতা ৳1,000), 8 বছর 7 মাস চাকরি আর গ্র্যাচুইটি প্রদেয় হলে 30 দিনের হিসাবে ৳120,000, গ্র্যাচুইটি ৳135,000; তাই ৳135,000 ধরা হয়, নোটিশ না দিলে আরও ৳15,000।

কোন মজুরি ধরা হয়: শুধু মূল মজুরি, না পুরো বেতন?

14(3) ধারা অনুযায়ী চাকরি শেষ হওয়ার আগের সর্বশেষ মাসিক মূল মজুরি, মহার্ঘ ভাতা এবং এডহক বা অন্তর্বর্তী মজুরি (যদি থাকে) ধরা হয়। বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, যাতায়াত ও অন্য ভাতা এতে নেই। এই ক্যালকুলেটর মূল মজুরির সঙ্গে ঐচ্ছিক মহার্ঘ বা এডহক অংশ ধরে।

মাসিক মজুরি থেকে দৈনিক মজুরি কীভাবে বের হয়?

এই ধারাগুলোতে আইনে তা বলা নেই, তাই আমরা কোনো সংখ্যা ধরে নিই না। আপনার মালিক মাসে যত দিন ধরে হিসাব করেন (প্রায়ই 30 বা 26) তা লিখুন। পে-স্লিপ, নিয়োগপত্র বা এইচআর থেকে জেনে নিন। ভাজক বদলালে ছাঁটাইয়ের এক মাসের নোটিশ বাদে সব অঙ্ক বদলে যায়।

গ্র্যাচুইটি কী এবং কীভাবে গোনা হয়?

2(10) ধারায় গ্র্যাচুইটি হলো সর্বশেষ মজুরি হারে প্রতি পূর্ণ বছর চাকরির জন্য, বা তার ওপর ছয় মাসের বেশি চাকরির জন্য, ন্যূনতম 30 দিনের মজুরি (চাকরি 10 বছরের বেশি হলে 45 দিনের মজুরি)। এটি পাবেন কি না তা মালিকের নিয়মের ওপর নির্ভর করে, তাই আপনি নিজে টিক দেন। টিক দিলে ক্ষতিপূরণের সঙ্গে তুলনা করে বেশিটি ধরা হয়।

নোটিশ না দিয়ে চাকরি ছাড়লে কী হবে?

নোটিশ ছাড়া ইস্তফা দিলে 27(3) ধারায় নোটিশ মেয়াদের মজুরির সমান অর্থ মালিককে দিতে হয়, স্থায়ী শ্রমিকের জন্য 60 দিন। এই ক্যালকুলেটর মোট অঙ্ক থেকে আনুমানিকভাবে তা বাদ দেয়। মালিক নোটিশ ছাড়া চাকরি শেষ করলে 26(3) ধারায় নোটিশ মেয়াদের মজুরি দিতে পারেন, মাসিক মজুরির স্থায়ী শ্রমিকের জন্য 120 দিন।

বরখাস্ত, অস্থায়ী শ্রমিক বা সরকারি চাকরি কি এতে আছে?

না। অসদাচরণে বরখাস্ত (ধারা 23) প্রমাণিত প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করে এবং কখনো ক্ষতিপূরণ নাও থাকতে পারে। অস্থায়ী শ্রমিকের নোটিশের নিয়ম আলাদা, আর সরকারি কর্মচারী ও অন্য আইনের অধীন শ্রমিকরা শ্রম আইনের বাইরে। অব্যয়িত ছুটির মজুরি (ধারা 11), ভবিষ্য তহবিল ও বোনাস ধরা হয়নি।

চূড়ান্ত পাওনা কবে মিটিয়ে দিতে হয়, এটি কি আইনি পরামর্শ?

30 ধারা অনুযায়ী চাকরি শেষ হওয়ার পর সর্বোচ্চ 30 কর্মদিবসের মধ্যে সব পাওনা পরিশোধ করতে হয়। এই ক্যালকুলেটর আনুমানিক হিসাব, আইনি পরামর্শ নয়। প্রকৃত অঙ্ক ঠিক হবে আপনার নিয়োগপত্র, চাকরি বিধি, কোনো মীমাংসা আর আদালতের মাধ্যমে। আরও পাওনা আছে মনে হলে ইউনিয়ন বা শ্রম অফিসের সঙ্গে কথা বলুন।

আপনার ওয়েবসাইটে এই ক্যালকুলেটর যোগ করুন

এই কোডটি কপি করে আপনার পেজে বসান। এটি ফ্রি। ক্যালকুলেটরটি আপনার পেজের ভেতরেই চলে, আর এতে লেখা কোনো তথ্য আপনার বা HisabBD-র কাছে পাঠানো হয় না।