মূল অংশে যান
HisabBD

গ্রস বেতন ও নিট বেতন কী: বেতন থেকে কী কী কাটা যায়

গ্রস ও নিট বেতনের মানে, প্রভিডেন্ট ফান্ড, আয়কর (TDS) আর লোনের কিস্তির মতো সাধারণ কর্তন, আর মাসিক ও বার্ষিক হিসাবে গ্রস থেকে হাতে পাওয়া বেতন বের করার নিয়ম।

প্রকাশ: 29 অক্টোবর 2026

সংক্ষেপে উত্তর

নিট (হাতে পাওয়া) বেতন = মোট বেতন − সব কর্তন, যেমন প্রভিডেন্ট ফান্ড, আয়কর (টিডিএস) আর ঋণের কিস্তি। যেমন ৳50,000 মোট বেতন থেকে ৳5,000 প্রভিডেন্ট ফান্ড, ৳1,500 টিডিএস আর ৳8,000 কিস্তি বাদ দিলে মাসে থাকে ৳35,500।

গ্রস বেতন ও নিট বেতন কী

গ্রস বেতন হলো কোনো কিছু কাটার আগের মোট বেতন। অনেক পে-স্লিপে এটি কয়েকটি অংশের যোগফল: মূল বেতন (বেসিক), বাড়িভাড়া ভাতা, চিকিৎসা ভাতা, যাতায়াত ভাতা ইত্যাদি। কোন অংশ কত, তা প্রতিষ্ঠানভেদে আলাদা।

নিট বেতন, যাকে হাতে পাওয়া বা টেক-হোম বেতনও বলে, হলো সব কর্তনের পর যে টাকা আপনার ব্যাংক বা মোবাইল অ্যাকাউন্টে আসে:

নিট বেতন = গ্রস বেতন − মোট কর্তন

অফার লেটারে সাধারণত গ্রস লেখা থাকে, কিন্তু সংসারের বাজেট চলে নিট দিয়ে। তাই “বেতন থেকে কত টাকা কাটা যায়” জানাটা জরুরি। নিজের অঙ্ক দিয়ে হিসাব করতে বেতন ক্যালকুলেটর ব্যবহার করুন; নিচে হাতে করার নিয়ম।

বেতন থেকে সাধারণত কী কী কাটা যায়

নিচের কর্তনগুলো প্রায়ই দেখা যায়। এখানে কোনো হার দেওয়া হয়নি, কারণ হার নিয়ম, প্রতিষ্ঠান আর আপনার নিজের আয়ের ওপর নির্ভর করে, আর সময়ের সাথে বদলায়। আপনার আসল অঙ্ক পাবেন পে-স্লিপে, নিয়োগপত্রে, বা অফিসের এইচআর/অ্যাকাউন্টস বিভাগে।

  • প্রভিডেন্ট ফান্ড (PF): বেতনের একটা অংশ আপনার নামে সঞ্চয় হিসেবে জমা হয়। কোন হারে কাটা হয়, আর তা মূল বেতনের ওপর নাকি গ্রসের ওপর, সেটা প্রতিষ্ঠানের PF নীতিমালায় লেখা থাকে। অনেক প্রতিষ্ঠানে নিয়োগকর্তাও আলাদা চাঁদা দেন; সেই অংশ আপনার বেতন থেকে কাটা হয় না।
  • আয়কর (TDS): নিয়োগকর্তা আপনার আনুমানিক বার্ষিক আয়কর হিসাব করে বেতন থেকে উৎসে কেটে রাখেন। এটা আলাদা কোনো খরচ নয়, আপনারই আয়কর, শুধু মাসে মাসে কাটা হয়। অঙ্কটা নির্ভর করে আপনার মোট আয়, বিনিয়োগ আর ওই বছরের কর নিয়মের ওপর, তাই অন্যের অঙ্ক দেখে নিজেরটা আন্দাজ করবেন না।
  • লোনের কিস্তি: অফিস বা ব্যাংকের লোনের মাসিক কিস্তি, যা সাধারণত প্রতি মাসে একই অঙ্ক।
  • অন্যান্য: অগ্রিম বেতনের ফেরত, কল্যাণ তহবিলের চাঁদা, বিনা বেতনে ছুটির কর্তন ইত্যাদি।

শতাংশ নাকি নির্দিষ্ট টাকা

প্রতিটি কর্তন দুইভাবে ধরা যায়:

  • গ্রসের শতাংশ: কর্তন = গ্রস × হার ÷ 100। গ্রস ৳50,000 আর হার 10% হলে কর্তন ৳5,000।
  • মাসে নির্দিষ্ট টাকা: যেমন ৳1,500 আয়কর বা ৳8,000 কিস্তি। গ্রস বদলালেও এটা বদলায় না।

আপনার PF যদি মূল বেতনের ওপর কাটা হয়, তাহলে গ্রসের শতাংশ হিসেবে লিখলে অঙ্ক বেশি আসবে। সেক্ষেত্রে পে-স্লিপে যত টাকা কাটা দেখাচ্ছে, সেই নির্দিষ্ট অঙ্কটাই লিখুন। মোট কর্তন কখনো গ্রসের চেয়ে বেশি হতে পারে না; হলে কোনো সংখ্যা ভুল লেখা হয়েছে।

উদাহরণ: ৳50,000 গ্রস থেকে নিট বেতন

এই সংখ্যাগুলো শুধু হিসাবটা দেখানোর জন্য, কোনো বাস্তব হার নয়। মাসে গ্রস ৳50,000; কর্তন গ্রসের 10% PF, মাসে ৳1,500 আয়কর আর ৳8,000 লোনের কিস্তি:

খাতমাসে (৳)বছরে (৳)
গ্রস বেতন50,0006,00,000
প্রভিডেন্ট ফান্ড (গ্রসের 10%)5,00060,000
আয়কর (TDS), নির্দিষ্ট1,50018,000
লোনের কিস্তি, নির্দিষ্ট8,00096,000
মোট কর্তন (গ্রসের 29%)14,5001,74,000
নিট (হাতে পাওয়া) বেতন35,5004,26,000
  1. PF: 50,000 × 10 ÷ 100 = ৳5,000।
  2. মোট কর্তন: 5,000 + 1,500 + 8,000 = ৳14,500, যা 14,500 ÷ 50,000 × 100 = গ্রসের 29%।
  3. নিট: 50,000 − 14,500 = মাসে ৳35,500। বছরে ৳4,26,000।

অর্থাৎ ৳50,000 বেতনের চাকরিতে এই কর্তনগুলো থাকলে প্রতি মাসে হাতে আসে ৳35,500। কর্তনের হার বা অঙ্ক বদলালে ফলও বদলাবে, তাই নিজের পে-স্লিপের সংখ্যা দিয়ে আবার হিসাব করুন।

পে-স্লিপ মিলিয়ে দেখার নিয়ম

মাস শেষে অ্যাকাউন্টে যে টাকা এল, তা ঠিক কি না বুঝতে পে-স্লিপ নিয়ে এই চারটি ধাপ মেলান:

  1. আয়ের ঘরের সব লাইন (মূল বেতন আর প্রতিটি ভাতা) যোগ করুন। যোগফল গ্রস বেতনের সমান হওয়ার কথা।
  2. কর্তনের ঘরের সব লাইন যোগ করুন: PF, আয়কর, কিস্তি আর অন্য যা আছে।
  3. গ্রস থেকে মোট কর্তন বাদ দিন। এটাই নিট বেতন।
  4. নিট অঙ্কটা ব্যাংক বা মোবাইল অ্যাকাউন্টে আসা টাকার সাথে মিলিয়ে দেখুন।

না মিললে সাধারণত কারণ হয় বিনা বেতনের ছুটি, আগের মাসের বকেয়া, এককালীন কোনো কর্তন বা করের সমন্বয়। কোন লাইনে পার্থক্য, তা খুঁজে পেলে অ্যাকাউন্টস বিভাগকে নির্দিষ্ট করে জিজ্ঞেস করা সহজ হয়।

মাসিক বনাম বার্ষিক বেতন

বার্ষিক = মাসিক × 12, আর মাসিক = বার্ষিক ÷ 12, অর্থাৎ 12টি সমান মাস ধরে। বছরে ৳6,00,000 গ্রস মানে মাসে ৳50,000, আর ওপরের কর্তনগুলোতে ফল একই থাকে। বছরে ৳1,20,000 বেতনে 10% কর্তন হলে মাসিক গ্রস ৳10,000, কর্তন মাসে ৳1,000 আর বছরে ৳12,000।

এই সহজ গুণে উৎসব বোনাস, ওভারটাইম, বছরের মাঝে বেতন বৃদ্ধি বা অনিয়মিত ভাতা ধরা নেই। কিছু অফার লেটারে বার্ষিক “প্যাকেজ” লেখা থাকে, যাতে বোনাস বা নিয়োগকর্তার চাঁদাও ধরা থাকতে পারে; সেই অঙ্ক 12 দিয়ে ভাগ করলে মাসের হাতে পাওয়া বেতন পাবেন না। প্যাকেজে কী কী আছে, তা এইচআর-এর কাছে জেনে নিন।

বেতনের হিসাবে সাধারণ ভুল

  • গ্রস দিয়ে বাজেট বা লোনের পরিকল্পনা করা। খরচ আর কিস্তি মেটাতে হয় নিট থেকে। নতুন লোন নেওয়ার আগে ইএমআই ক্যালকুলেটরে কিস্তি দেখে নিন, তারপর সেটা নিট বেতনের সাথে মিলিয়ে দেখুন।
  • মূল বেতনের ওপর কাটা PF-কে গ্রসের শতাংশ ধরা। এতে কর্তন বেশি আর নিট কম দেখাবে।
  • বন্ধু বা সহকর্মীর আয়কর ধরে নেওয়া। একই বেতনেও বিনিয়োগ আর অন্য আয়ভেদে কর আলাদা হয়।
  • বার্ষিক প্যাকেজকে 12 দিয়ে ভাগ করে মাসিক নিট ভাবা। প্যাকেজে বোনাস থাকলে মাসের অঙ্ক কম হবে।
  • PF-কে হারানো টাকা ভাবা। এটা আপনারই সঞ্চয়, শুধু এ মাসে হাতে আসছে না। আলাদা করে মাসে নির্দিষ্ট অঙ্ক জমাতে চাইলে ডিপিএস ক্যালকুলেটরে দেখুন মেয়াদ শেষে কত দাঁড়ায়।

নিজের পে-স্লিপের সংখ্যাগুলো বেতন ক্যালকুলেটরে দিলে মাসিক ও বার্ষিক নিট বেতন আর প্রতিটি কর্তন আলাদা করে দেখা যাবে। সব হিসাব আপনার ফোনেই হয়, বেতনের কোনো তথ্য কোথাও পাঠানো হয় না।

বেতন ক্যালকুলেটর দিয়ে হিসাব করুন