মূল অংশে যান
HisabBD

ফ্ল্যাট রেট থেকে আসল সুদের হার

Flat Rate to Real Interest Rate Calculator

ফ্ল্যাট রেটকে আসল (ক্রমহ্রাসমান স্থিতির) সুদের হারে রূপান্তর করুন। ঋণের পরিমাণ, ফ্ল্যাট রেট, মেয়াদ আর মাসিক বা সাপ্তাহিক কিস্তি দিলেই কিস্তি আর প্রকৃত বার্ষিক হার দেখা যাবে।

অর্থ বিভাগের আরও ক্যালকুলেটর

ঋণ থেকে কেটে নেওয়া প্রসেসিং, বিমা বা ফর্ম ফি।

কিস্তি

আসল হার এখানে দেখা যাবে

ঋণের পরিমাণ, ফ্ল্যাট রেট আর মেয়াদ লিখে “আসল হার বের করুন” চাপুন।

ফ্ল্যাট রেট থেকে আসল হার কীভাবে বের হয়

ফ্ল্যাট রেটে পুরো মেয়াদ জুড়ে মূল ঋণের ওপর সুদ ধরা হয়। এনজিও, ক্ষুদ্রঋণ আর কিছু গাড়ি ও ভোগ্যপণ্যের ঋণে সাপ্তাহিক বা মাসিক কিস্তিসহ প্রায়ই এভাবে হার বলা হয়।

  • মোট ফ্ল্যাট সুদ = ঋণ × ফ্ল্যাট রেট × বছর, যেখানে বছর = মাস ÷ 12।
  • কিস্তি = (ঋণ + মোট সুদ) ÷ কিস্তির সংখ্যা।
  • আসল হার: প্রতি কিস্তির যে হার i-তে কিস্তিগুলোর বর্তমান মূল্য আপনার পাওয়া টাকার সমান হয়, পাওয়া টাকা = কিস্তি × (1 − (1 + i)−N) ÷ i। i-এর সরাসরি সূত্র নেই, তাই ক্যালকুলেটর বাইসেকশন পদ্ধতিতে বের করে।
  • আসল বার্ষিক হার = i × বছরের কিস্তির সংখ্যা (মাসিক 12, সাপ্তাহিক 52)। কার্যকর বার্ষিক হার হলো (1 + i)বছরের কিস্তির সংখ্যা − 1।

পাওয়া টাকা হলো ঋণ থেকে অগ্রিম ফি বাদ দেওয়া টাকা। সুদ আর কিস্তি কিন্তু পুরো ঋণের ওপরেই ধরা হয়।

উদাহরণ: ৳1,00,000, 12% ফ্ল্যাট, মাসিক

  1. সুদ = 1,00,000 × 12% × 1 বছর = ৳12,000।
  2. কিস্তি = (1,00,000 + 12,000) ÷ 12 = ৳9,333.33।
  3. ৳9,333.33-এর 12টি কিস্তির মূল্য ৳1,00,000-এর সমান হওয়ার মাসিক হার প্রায় 1.788%, তাই আসল বার্ষিক হার 1.788% × 12 = 21.46%। মাসিক চক্রবৃদ্ধি ধরলে কার্যকর বার্ষিক হার 23.70%।

উদাহরণ: ৳50,000, 15% ফ্ল্যাট, সাপ্তাহিক

সাপ্তাহিক মানে বছরে 52টি কিস্তি, তাই 12 মাসে 52টি কিস্তি। সুদ = 50,000 × 15% = ৳7,500 আর কিস্তি = (50,000 + 7,500) ÷ 52 = ৳1,105.77। মিলে যাওয়া সাপ্তাহিক হার প্রায় 0.541%, তাই আসল বার্ষিক হার 0.541% × 52 = 28.14%, বলা 15%-এর প্রায় দ্বিগুণ।

আরও কয়েকটি উদাহরণ পাশাপাশি

ঋণফ্ল্যাট রেটমেয়াদকিস্তিআসল হারকার্যকর হার
৳1,00,00012%12 মাস, মাসিক৳9,333.33 × 1221.46%23.70%
৳1,00,000, ফি ৳2,000 বাদে12%12 মাস, মাসিক৳9,333.33 × 1225.40%28.58%
৳2,00,00010%24 মাস, মাসিক৳10,000 × 2418.16%19.75%
৳50,00015%12 মাস, সাপ্তাহিক৳1,105.77 × 5228.14%32.40%

ফ্ল্যাট রেট কেন খরচ কম দেখায়

প্রতিটি কিস্তিতে ঋণের কিছু অংশ শোধ হয়, তাই আপনার বাকি ঋণ কমে। ফ্ল্যাট রেট সেটা গোনে না, পুরো টাকার ওপরেই সুদ ধরে। ৳1,00,000-এর উদাহরণে সুদ ৳12,000, অথচ গড়ে আপনার হাতে থাকে ঋণের প্রায় ৳54,167। এক বছরে শোধ হওয়া মাসিক কিস্তির ঋণে 5% থেকে 30% ফ্ল্যাট রেটে আসল হার ফ্ল্যাট রেটের মোটামুটি 1.7 থেকে 1.8 গুণ। অগ্রিম ফি থাকলে আরও বাড়ে, কারণ আপনি যা পান তার চেয়ে বেশি ফেরত দেন।

ফ্ল্যাট আর ক্রমহ্রাসমান স্থিতির ঋণের তুলনা এবং ইএমআই কীভাবে হিসাব হয় জানতে পড়ুন ইএমআই কীভাবে হিসাব করা হয়। ক্রমহ্রাসমান স্থিতির হারে বলা ঋণের জন্য ইএমআই ক্যালকুলেটর, আর সাধারণ সরল বা চক্রবৃদ্ধি মুনাফার জন্য মুনাফা ক্যালকুলেটর ব্যবহার করুন।

ধরে নেওয়া শর্ত

  • কিস্তি সমান, প্রতি মাস বা সপ্তাহের শেষে দেওয়া হয়; টাকা পাওয়ার এক পর্ব পরে প্রথম কিস্তি।
  • সাপ্তাহিক মানে বছরে 52টি কিস্তি, তাই সংখ্যা = মাস × 52 ÷ 12, কাছের পূর্ণ সংখ্যায়। আপনার ঋণদাতা সপ্তাহ অন্যভাবে গুনতে পারে।
  • বিলম্ব ফি, প্রতি কিস্তিতে নেওয়া বিমা, গ্রেস পিরিয়ড আর আংশিক পরিশোধ ধরা হয়নি।
  • এই পাতা সুদের হারের কোনো আইনি সীমা বলে না। ঋণদাতার লিখিত কিস্তির তালিকা চেয়ে নিয়ে আসল হারের সঙ্গে মেলান।

ক্যালকুলেটর ব্যবহারের নিয়ম

  1. ঋণের পরিমাণ লিখুন। বাংলা অঙ্ক আর 1,00,000-ধরনের কমা দুটোই চলে।
  2. বার্ষিক ফ্ল্যাট সুদের হার লিখুন, যেমন 12।
  3. ঋণের মেয়াদ পূর্ণ মাসে লিখুন।
  4. মাসিক বা সাপ্তাহিক কিস্তি বেছে নিন।
  5. ঋণ থেকে কেটে নেওয়া অগ্রিম ফি থাকলে লিখুন, না থাকলে ফাঁকা রাখুন।
  6. “আসল হার বের করুন” চেপে কিস্তি, মোট পরিশোধ আর আসল বার্ষিক হার দেখুন।

সচরাচর জিজ্ঞাসা

ফ্ল্যাট রেট ঋণের আসল সুদের হার কত?

আপনার হাতে থাকা বাকি ঋণের ওপর বার্ষিক যে হার পড়ে, সেটাই আসল হার। ফ্ল্যাট রেট পুরো মেয়াদে মূল টাকার ওপর ধরা হয়, তাই আসল (ক্রমহ্রাসমান স্থিতির) হার অনেক বেশি। ৳1,00,000-এর 12% ফ্ল্যাট রেটে 12 মাসের ঋণে আসল হার প্রায় 21.46%।

ফ্ল্যাট রেট থেকে আসল সুদের হার কীভাবে বের করব?

আগে কিস্তি বের করুন: (ঋণ + ঋণ × ফ্ল্যাট রেট × বছর) ÷ কিস্তির সংখ্যা। তারপর এমন হার খুঁজুন যাতে ওই কিস্তিগুলোর বর্তমান মূল্য আপনার পাওয়া টাকার সমান হয়। এর সহজ সূত্র নেই; এই ক্যালকুলেটর সেটা হিসাব করে দেয়। মোটামুটি, এক বছরের মাসিক কিস্তির ঋণে 5% থেকে 30% ফ্ল্যাট রেটে আসল হার ফ্ল্যাট রেটের প্রায় 1.7 থেকে 1.8 গুণ।

ফ্ল্যাট রেট দেখতে কম লাগে কেন?

কারণ কিস্তি দিলেও সুদ কমে না। 12 মাসের ঋণের 6 মাস পর প্রায় অর্ধেক টাকা বাকি, তবু সুদ পুরো টাকার ওপর দিতে হয়। ৳1,00,000-এর 12% ফ্ল্যাট রেটে সুদ ৳12,000, অথচ গড়ে আপনার হাতে থাকে ঋণের প্রায় ৳54,167।

সাপ্তাহিক কিস্তি এখানে কীভাবে ধরা হয়?

সাপ্তাহিক মানে বছরে 52টি কিস্তি, তাই 12 মাসের ঋণে 52টি কিস্তি, আর আসল হার হলো সাপ্তাহিক হারকে 52 দিয়ে গুণ। ৳50,000-এর 15% ফ্ল্যাট রেটে 12 মাসে কিস্তি প্রায় ৳1,105.77 আর আসল হার প্রায় 28.14%। আপনার ঋণদাতা সপ্তাহ অন্যভাবে গুনতে পারে, তাই তার কিস্তির তালিকা মিলিয়ে নিন।

অগ্রিম ফি থাকলে আসল হার কেমন বদলায়?

ঋণ থেকে কেটে নেওয়া প্রসেসিং বা বিমা ফি থাকলে আপনি যা পান তার চেয়ে বেশি ফেরত দেন। ৳1,00,000-এর উদাহরণে ৳2,000 ফি কাটলে আসল হার প্রায় 21.46% থেকে বেড়ে প্রায় 25.40% হয়। ফি ঘরে টাকার অঙ্ক দিলেই তা ধরা হবে।

আসল হার আর কার্যকর বার্ষিক হারের পার্থক্য কী?

আসল (নামমাত্র) হার হলো প্রতি কিস্তির হারকে বছরের কিস্তির সংখ্যা দিয়ে গুণ, ৳1,00,000-এর উদাহরণে 21.46%। কার্যকর বার্ষিক হার কিস্তির মাঝের চক্রবৃদ্ধিও ধরে, তাই বেশি, প্রায় 23.70%। ব্যাংকের বলা ক্রমহ্রাসমান হারের সঙ্গে আসল হার মেলান, আর পুরো বার্ষিক খরচ দেখতে কার্যকর হার দেখুন।

আপনার ওয়েবসাইটে এই ক্যালকুলেটর যোগ করুন

এই কোডটি কপি করে আপনার পেজে বসান। এটি ফ্রি। ক্যালকুলেটরটি আপনার পেজের ভেতরেই চলে, আর এতে লেখা কোনো তথ্য আপনার বা HisabBD-র কাছে পাঠানো হয় না।